ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৭ অক্টোবর ২০২২
  • অন্যান্য
নোটিফিকেশন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পায়রা বন্দরের উন্নয়নকাজ ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জুয়েল ফরাজী, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
অক্টোবর ২৭, ২০২২ ৬:১৩ অপরাহ্ণ । ৬৭ জন
Link Copied!
একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুয়েল ফরাজী, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) |

পায়রাবন্দরে প্রায় ১১ হাজার ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পায়রা বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও আটটি জাহাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও তিনি বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, ৬-লেন সংযোগ সড়ক এবং সেতু নির্মাণকাজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (অক্টোবর, ২৭) সকাল সারে দশটায় পায়রা বন্দরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার এবং পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পায়রা বন্দর এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শণ করা হয়।

জানাযায়, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ‘রাবনাবাদ চ্যানেল’ এর চারিপাড়া এলাকায় পায়রা সমুদ্র বন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সে সময় ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে চট্টগ্রাম বন্দরের তত্বাবধানে দেশের তৃতীয় এ সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ঐ বছরই ৫আগস্ট মন্ত্রীসভা ‘পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ডিন্যান্স-২০১৩’ এর অনুমোদনের পরে একই বছরের ৫ নভেম্বর এ সংক্রান্ত বিল জাতীয় সংসদে পাসের ফলে পরবর্তিতে এ বন্দর কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। পটুয়াখালির কলাপাড়ায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল এবং পায়রা বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহাইল।

পায়রা বন্দর সূত্রে জানাযায়, বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজের ও আটটি জাহাজের উদ্বোধন এবং প্রথম টার্মিনাল, ৬-লেন সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণ ফলে বন্দরটি পরিপূর্ণ সক্ষমতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে, যার সুফল বাঙালি জাতি যুগ যুগ ধরে ভোগ করবে। ইতোমধ্যে এই বন্দরে ২৩৬টি সমুদ্রগামী জাহাজ আগমন করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫৪৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দরের সঠিক পরিকল্পনা ও পরিপূর্ণ মাস্টার প্লান প্রনয়ণের লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডের রয়েল হাসকনিং ডিএইচভি এবং বুয়েটের গবেষণা, পরীক্ষা ও পরামর্শক ব্যুরো-বিআরটিসি’কে ২০১৯ সালে পরার্মশক নিয়োগ করা হয়। সে আলোকে ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের পরিপূর্ণ নকশা প্রনয়ণসহ সার্বিক কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ণ করছে।

বন্দরের উন্নয়নসহ সুষ্ঠু পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বন্দরের জেটি এলাকা থেকে সাগরের মধ্যে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ১০.৫ মিটার গভীরতা সম্পন্ন ১২৫ মিটার প্রশস্ত ক্যাপিটাল ড্রেজিং গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। এসময় দু’টি পাইলট ভেসেল, দু’টি হেভি ডিউটি স্পিডবোট, একটি বয় লেইং ভেসেল, একটি সার্ভে বোট এবং দু’টি টাগবোটসহ আটটি জাহাজের উদ্বোধন করা হয়। ৪০ হাজার টন পণ্য ও ৩ হাজার কন্টেইনারবাহী নৌযান বন্দরের চলাচলের লক্ষে এ ড্রেজিং প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। বেলজিয়ামের ‘জান ডি নুল’ এ ড্রেজিং সম্পন্ন করছে। একইসাথে বন্দরের জন্য ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি পাইলট ভ্যাসেল, ২টি হেভি ডিউটি স্পীড বোট, দুটি টাগ বোট, ১টি বয়া লেয়িং ভেসেল ছাড়াও ১টি সার্ভে ভেসেল-এর উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা শিপইয়ার্ড ও নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড ছাড়ও দুটি বেসরকারি নৌ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দেশেই এসব বিশেষায়িত নৌযান নির্মাণ করেছে।

অপর এক প্রকল্পের আওতায় পায়রা বন্দরের জন্য প্রথম টার্মিনাল ৬.৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেন সংযোগ সড়ক ও আন্ধারমানিক নদের ওপর ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরের প্রথম টার্মিনালের আওতায় ৩টি জেটি নির্মিত হলে একইসাথে ২শ’ মিটার দীর্ঘ ৪০ হাজার টন বহন ক্ষমতার ৩টি কন্টেইনার বা বাল্কবাহী কার্গো জাহাজ ভিড়তে পারবে। এ প্রকল্পের মধ্যে ৩টি জেটি নির্মাণে প্রায় ৯১৭ কোটি টাকাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে আরো ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নির্মিতব্য ইয়ার্ডে হাই কেন্টইনার স্থাপনের সংস্থান ছাড়াও রাবার টায়ার্ড গ্যন্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে কন্টেইনার স্টেকিং এবং লোড-আনলোড সম্ভব হবে। এসব ইয়ার্ডে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বছরে ৮ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে বলে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

একই প্রকল্পের আওতায় পায়রা বন্দর থেকে ৬.৩৫ কিলোমিটার ১টি সংযোগ সড়ক নির্মিত হচ্ছে। নৌ পরিবহনে মন্ত্রণালয়ের অর্থে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসেবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে। স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছে। বন্দরের পণ্য পরিবহনের লক্ষে প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্ধারমানিক নদের ওপর ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুও নির্মাণ করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাছাই ও চুক্তি সম্পাদন থেকে ৩০ মাসের মধ্যে এ সেতুটি নির্মিত হবার কথা রয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পায়রার বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে। গত কয়েক বছরে পায়রা বন্দরে ২৩৬টি পণ্যবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙর ও পণ্য খালাশ করায় বন্দরের আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের তৃতীয় এ সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য পর্যায়ক্রমে বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মো. সোহায়েল।

এর আগে গত (অক্টোবর, ২৪) সোমবার পায়রা বন্দরের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পায়রা বন্দরের উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় অন্যানদের মধ্যে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রিন্সিপাল মহিববুর রহমান মহিব, পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েল, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. রফিকুল ইসলাম খান, পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর মামুনুর রশীদ, কমডোর রাজীব ত্রিপুরা ও ক্যাপ্টেন এম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সর্বশেষ
error: Content is protected !!